Sunday, 18 October 2015

হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদতকে কেন্দ্র করে মাতম এবং নিজেদের শরীর ক্ষতবিক্ষত করে থাকেন তাদের কাছে প্রশ্ন, হুসাইন (রাঃ) কি উমার, উসমান, আলী (রাঃ) এর চেয়েও শ্রেষ্ঠ?


Nayon Ahmed to কোরআন ও হাদিসের বাণী | Md Nur Mamun writter group

হুসাইন (রাঃ) কি উমার, উসমান, আলী (রাঃ) এর চেয়েও শ্রেষ্ঠ?-
যারা হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদতকে কেন্দ্র করে মাতম এবং নিজেদের শরীর ক্ষতবিক্ষত করে থাকেন তাদের কাছে প্রশ্ন, হুসাইন (রাঃ) কি উমার, উসমান, আলী (রাঃ) এর চেয়েও শ্রেষ্ঠ? ইসলামের এই মহান ৩ খলিফা যারা আসারায়ে মুবাসসারা অর্থাৎ দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত তারাও তো নির্মমভাবে শহীদ হয়েছেন, কেন তাদের ক্ষেত্রে মাতম না করে হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদতকে কেন্দ্র করে এই হারাম কাজে আপনারা লিপ্ত হয়েছেন? ১টা প্রশ্নই আপনার সরল পথে ফিরে আসার জন্য যথেষ্ট হবে ইন শা আল্লাহ যদি আপনি সত্য অনুসন্ধানী হন আর যদি যথেষ্ট না হয় তবে শরীয়তের বিধান আপনার জেনে রাখা দরকার-
মুসলিম হিসেবে আমাদের রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিক্ষা দিয়েছেন, মৃত বা শহীদ ব্যক্তির জন্য বিলাপ না করা, আনুষ্ঠানিকভাবে তিন দিনের বেশি শোক প্রকাশ না করা। তিনি বলেছেন:
মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপকারী যদি তওবা না করে মারা যায়, তাকে কিয়ামতের দিন লোহার কাঁটাযুক্ত জামা পড়ানো হবে এবং আলকাতরার প্রলেপ লাগানো পায়জামা পড়ানো হবে। (সহীহ মুসলিম-৯৩৪)

আর সিয়াম পালনের যে বিধান রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের দিয়েছেন তাঁর সাথে হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদাতের কোন সম্পর্ক নেই, রাসুল (সাঃ)-এর মৃত্যুর পর হুসাইন (রাঃ) শহীদ হয়েছেন তাহলে কি করে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে শরীয়তে কিছু থাকতে পারে? শরিয়তের বিধান শুধুমাত্র রাসুল (সাঃ) যতদিন বেঁচে ছিলেন শুধুই ততদিন নাযিল হয়েছে তাহলে রাসুল (সাঃ)-এর মৃত্যুর অনেক বছর পর হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদত বিষয়ে কিই বা শরীয়তে থাকতে পারে?
আশুরা বা ১০ই মুহাররম যে কারণে ফযিলতপূর্ণ সেটা হল, এই দিনে আল্লাহ তা’লা মুসা (আঃ)এবং তাঁর কওমকে ফেরাউনের কবল থেকে রক্ষা করে ফেরাউনকে সাগরে ডুবিয়ে মেরেছেন এ কারনেই আল্লাহ তা’লার শোকরিয়া জ্ঞাপনার্থে সিয়াম পালনের বিধান দেওয়া হয়েছে-
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিজরত করে ইহূদীদেরকে আশূরার সিয়াম রাখতে দেখে কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, ﻫَﺬَﺍ ﻳَﻮْﻡٌ ﻋَﻈِﻴﻢٌ ﺃَﻧْﺠَﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻓِﻴْﻪِ ﻣُﻮْﺳَﻰ ﻭَﻗَﻮْﻣَﻪُ ﻭَﻏَﺮَّﻕَ ﻓِﺮْﻋَﻮْﻥَ ﻭَﻗَﻮْﻣَﻪُ ﻓَﺼَﺎﻣَﻪُ ﻣُﻮْﺳَﻰ ﺷُﻜْﺮًﺍ ﻓَﻨَﺤْﻦُ ﻧَﺼُﻮْﻣُﻪُ . ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﻨَﺤْﻦُ ﺃَﺣَﻖُّ ﻭَﺃَﻭْﻟَﻰ ﺑِﻤُﻮْﺳَﻰ ﻣِﻨْﻜُﻢْ . ﻓَﺼَﺎﻣَﻪُ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭَﺃَﻣَﺮَ ﺑِﺼِﻴَﺎﻣِﻪِ
এটি একটি মহান দিন। এদিনে আল্লাহ মূসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর কওমকে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফেরাঊন ও তার লোকদের ডুবিয়ে মেরেছিলেন। তাঁর শুকরিয়া হিসাবে মূসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দিন সিয়াম পালন করেন। তাই আমরাও এ দিন সিয়াম পালন করি। তখন রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের চাইতে আমরাই মূসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর (আদর্শের) অধিক হকদার ও অধিক দাবীদার। অতঃপর তিনি সিয়াম রাখেন ও সকলকে রাখতে বলেন। (সহিহ মুসলিম)
আল্লাহ তা’লা আমাদের সঠিক জেনে সে অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দিন, আমিন।

No comments:

Post a Comment